লবণাক্ত মাটি মানেই চাষের অযোগ্য—এই ধারণা বদলে দিচ্ছে সুন্দরবন। ধান কাটার পর ফেলে রাখা নোনা জমিতেই এখন দেদার ফুটছে সূর্যমুখী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই চাষ এখন বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকদের নতুন ভরসা হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সঠিক জাতের বীজ, পরিমিত জৈব সার এবং সুনির্দিষ্ট সেচ ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করেই মিলছে সাফল্য। কৃষকদের মতে, ধান চাষের পর সূর্যমুখী করলে জমির নোনাভাব কিছুটা কমে এবং মাটির উর্বরতাও উন্নত হয়। ফলে একই জমি থেকে বছরে অতিরিক্ত আয় সম্ভব হচ্ছে।
সূর্যমুখী শুধু সৌন্দর্যের ফুল নয়, এর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল স্বাস্থ্যসম্মত ভোজ্যতেল হিসেবে বাজারে চাহিদাসম্পন্ন। কম খরচে চাষ এবং তুলনামূলক কম ঝুঁকি থাকায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে জয়ন্তনগর, কুলতলী, দক্ষিণ বারাসাত ও বারুইপুর অঞ্চলে হেক্টরের পর হেক্টর জমিতে এই চাষ নজর কাড়ছে।
কৃষি আধিকারিকদের মতে, বপনের আগে মাটি পরীক্ষা, সঠিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং সময়মতো আগাছা নিয়ন্ত্রণ করলে ফলন আরও বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি, বাজার সংযোগ ও তেল উৎপাদনের ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে উঠলে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও গতি আসবে।
প্রতিকূল প্রকৃতির মাঝেও সূর্যমুখীর হলুদ আভা যেন সুন্দরবনের কৃষিজীবনে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নোনা মাটিতে সূর্যমুখীর সাফল্য, সুন্দরবনে চাষিদের মুখে হাসি
