পাহাড়ে কেন্দ্রের মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে তীব্র আপত্তি: প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি মুখ্যমন্ত্রী মমতার

দার্জিলিং, কালিম্পং ও তরাই-ডুয়ার্সের পাহাড়ি অঞ্চলের রাজনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগকে ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই এই পদক্ষেপ নেওয়ায় সরাসরি আপত্তি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, ২০১১ সালের ১৮ জুলাই একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে দার্জিলিংয়ে গঠিত হয়েছিল গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)। এই চুক্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা একযোগে স্বাক্ষর করেছিল। সেই জিটিএ-র আওতাভুক্ত এলাকায় শান্তি ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা আবশ্যক ছিল বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি প্রাক্তন উপ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার পঙ্কজ কুমার সিং-কে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে। তাঁর দায়িত্ব হবে বিভিন্ন গোর্খা সংগঠনের সঙ্গে কথা বলে পাহাড় সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা। এই নিয়োগকে একতরফা ও অগণতান্ত্রিক বলে অভিহিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, এবং তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

রাজ্য সরকারের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ রাজ্যের সাংবিধানিক অধিকার ও প্রশাসনিক পরিকাঠামোর ওপর হস্তক্ষেপের সামিল। মুখ্যমন্ত্রীর চিঠিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, “কী কারণে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?”

এই ঘটনায় কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সম্পর্ক আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার দরজা খুললেও, রাজ্য সরকারের অংশগ্রহণ ছাড়া তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।