পিঙ্ক সল্টে আয়োডিন কম, বাড়তে পারে থাইরয়েডের সমস্যা

স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই এখন সাধারণ আয়োডিনযুক্ত লবণের বদলে পিঙ্ক সল্ট বা হিমালয়ান লবণ ব্যবহার করছেন। তবে চিকিৎসক ও সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, পিঙ্ক সল্ট সবসময় নিরাপদ বা বেশি স্বাস্থ্যকর—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়।
পিঙ্ক সল্টে আয়োডিন যোগ করা থাকে না। অথচ আয়োডিন থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাভাবিক কাজের জন্য অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন আয়োডিনের ঘাটতি হলে গয়টার বা থাইরয়েড ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত শুধু পিঙ্ক সল্ট ব্যবহার করলে আয়োডিনের ঘাটতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এ ছাড়া পিঙ্ক সল্টেও প্রায় ৯৮ শতাংশই সোডিয়াম ক্লোরাইড থাকে, যা সাধারণ নুনের মতোই। অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ করলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনির সমস্যার আশঙ্কা বাড়ে। অনেকেই মনে করেন পিঙ্ক সল্টে সোডিয়াম কম থাকে, কিন্তু বাস্তবে তা নয়।
পিঙ্ক সল্টে ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম বা আয়রনের মতো কিছু খনিজ থাকলেও তার পরিমাণ খুবই কম, যা উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য উপকার দেয়—এমন প্রমাণ নেই। অপরিশোধিত হলে অল্পমাত্রায় ভারী ধাতুও থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যে ধরনের লবণই ব্যবহার করুন না কেন, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিদিন ৫ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় মাছ, দুধ ও ডিমের মতো আয়োডিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা প্রয়োজন।