আজ আমরা রুজি রোজগার, এবং বাস্তু হারা হতে যাচ্ছি, এমন সময় চা শ্রমিকদের নিয়ে রাজনীতি করা নেতারা চুপ কেনো, সময় আসছে এর জবাব দেবার। হুঙ্কার আদিবাসী বিকাশ পরিষদের। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহষ্পতিবার অখিল ভারত আদিবাসী বিকাস পরিষদ অনুমোদিত প্রগ্রেসিভ টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবী দাবাকে সামনে রেখে শ্রমিকদের বৃহত্তর সমাবেশ হলো জলপাইগুড়ি জেলা শাসকের কার্যালয় চত্বরে। দাবী গুলোর মধ্যে চা বাগানের ৩০শতাংশ জমি ভিন্ন কাজে ব্যবহারের যে নির্দেশিকা জারী করেছে রাজ্যে সরকার,সেটি অবিলম্বে বাতিল, সহ নিম্নতম মজুরী প্রদান, এবং ডুয়ার্স তরাই এর চা বাগানে বসবাসকারী আদিবাসী, গোর্খা, সহ অন্যান্য জনজাতির ভূমি পুত্রীদের জমির খতিয়ান, দলিল প্রদান প্রমুখ।
দাবী সম্মিলিত স্বারক লিপি প্রদান কর্মসূচি উপলক্ষে এদিন তরাই,ডুয়ার্সের প্রায় পাঁচ শতাধিক চা বাগান শ্রমিক জলপাইগুড়ি শহরের টাউন ক্লাব স্টেডিয়ামের সামনে সমবেত হয়ে প্রতিবাদ মিছিল করে জেলা শাসকের কার্যালয়ে পৌছে নিজেদের দাবীতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। এদিন জলপাইগুড়ি জেলা শাসক কার্যালয় যাবার আগে অখিল ভারত আদিবাসী বিকাশ পরিষদ অনুমোদিত প্রগ্রেসিভ টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতৃত্ব নারায়ন টোপপো ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, আজ শহরের ,জেলার যে সব রাজনৈতিক নেতারা এত বছর ধরে চা বাগানের শ্রমিকদের নিয়ে রাজনীতি করে বড় হয়েছে, আজ যখন চা বাগানের ভূমিপুত্র দের রুজি রোজগার, কেড়ে নিয়ে বাস্তুচ্যুত করার মতো নির্দেশিকা জারী করেছে সরকার ,তখন তারা কোথায়? তবে আগামীতে এই সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের এর জবাব দিতে হবে বলে এদিন হুংকার দেন এই আদিবাসী
অপরদিকে বৃহস্পতিবারের স্বারক লিপি প্রদান কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রগ্রেসিভ টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের জেলা সভাপতি বাবলু মাঝি বলেন, আজ ডুয়ার্স এবং তরাই এর চা বাগানের শ্রমিকদের সামনে কঠিন সময়। রাজ্যে সরকারের চা বাগানের ৩০ শতাংশ জমি ভিন্ন কাজে ব্যবহারের নির্দেশিকা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে, এছাড়া নিম্নতম মুজুরি চালু সহ আমাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া কৃষি এবং বসবাসের জমি সেই পরিবারের সদস্যদের নামে নথিভুক্ত করে দেবার দাবী জানাতে আজ তরাই ডুয়ার্সের চা বাগানের শ্রমিকরা এক জোট হয়ে জেলা শাসকের অফিস এসেছে।আগামী কুড়ি তারিখে জেলা শাসক কার্যালয়ে ডেপুটেশন কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মূলত তিনটি দাবিতে সেদিন ডুয়ার্সের সমস্ত চা বাগানের আদিবাসী শ্রমিক এবং তরাই বলয়ের নেতৃত্ব জলপাইগুড়ি জেলা শাসককে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসবেন।
দাবী গুলোর মধ্যে রয়েছে ,সম্প্রতি রাজ্যে সরকার চা বাগানের ৩০ শতাংশ জমি ভিন্ন কাজে ব্যবহারের যে অনুমোদন দিয়েছে সেই নির্দেশিকা বাতিল করতে হবে,কারন চা বাগানের জমি পুঁজিপতিদের হাতে গেলে একদিকে যেমন প্রায় দুশো বছর ধরে চা বাগানে যে আদিবাসী সহ অন্যান্য জনজাতির ভূমিপুত্ররা বসবাস করে আসছে তাদের অস্তিত্ব সংকট দেখা দেবে ,যেমনটা পূর্বে চাঁদমুনি চা বাগান তুলে উত্তরায়ণ আবাসন প্রকল্পে হয়েছে, এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যে সরকার চা বাগান শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরী চালু করছে না, অথচ এই ব্যাপারে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি হয়ে গেছে বহু দিন আগে। এর পাশাপাশি চা বাগান শ্রমিকদের বসবাসের জন্য যে জমি রয়েছে ,আজ পর্যন্ত সেই জমির কোনো খতিয়ান, দলিল ,নামজারি কিছুই করেনি রাজ্যে সরকার। ডুয়ার্স এবং তরাই এর আদিবাসী চা বাগান শ্রমিকদের এই জ্বলন্ত সমস্যা গুলো নিয়েই আগামী কুড়ি তারিখ হাজার হাজার আদিবাসী শ্রমিক জলপাইগুড়ি জেলা শাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দাবী সম্মিলিত স্বারক লিপি প্রদান করবে। আজ সেই কর্মসূচির জন্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে আমাদের।