ঢাকের শব্দ, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তিমূলক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে কোচবিহার জেলায় পালিত হল রাজবংশী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ক্ষত্রিয় উপনয়ন ও মহামিলন উৎসব। দিনহাটার বুড়িরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই ভিড় জমায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
বুড়িরহাট পঞ্চানন পিঠে জাতীয় পতাকা ও ক্ষত্রিয় সমাজের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর মনীষী রায়সাহেব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা।
উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল রাজবংশী যুবকদের ক্ষত্রিয় উপনয়ন। নির্দিষ্ট আচার – অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাথা মুণ্ডন ও পৈতা প্রদান করা হয়। পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে এই আচার ঘিরে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়। অনেক অভিভাবক জানান, এই অনুষ্ঠান তাঁদের সন্তানদের নিজেদের ঐতিহ্য ও শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
আয়োজকদের কথায়, ১৯১৩ সালের ২৭শে মাঘ করতোয়া নদীর তীরে পঞ্চানন বর্মার উদ্যোগে যে ঐতিহাসিক সমাবেশ হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর এই দিনটি পালন করা হয়। শুধু কোচবিহার বা উত্তরবঙ্গ নয়, উত্তর-পূর্ব ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালেও একই দিনে পালিত হয় এই মহামিলন।
বুড়িরহাটের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বুড়িরহাট এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আলিমা খাতুন বিবি, সমাজসেবী আব্দুল সাত্তার, যাজ্ঞ বলকো সিংহ, খগেশ্বর বর্মনসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
দিন শেষে মহামিলনের বার্তা একটাই ঐতিহ্য শুধু স্মৃতিতে নয়, প্রজন্মের হাতে তুলে দিয়েই তাকে বাঁচিয়ে রাখা যায়।
