ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নন-ব্যাঙ্কিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইআইএফএল ফিন্যান্স লিমিটেড, সিকিউরড রিডিমেবল নন-কনভার্টিবল ডিবেঞ্চার (এনসিডি) বা বন্ড ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছে। এই পাবলিক ইস্যুটি আগামী মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে খোলা হবে। কোম্পানিটি প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকা তোলার লক্ষ্য রাখলেও, বেশি আবেদন জমা পড়লে আরও ১,৫০০ কোটি টাকা অর্থাৎ মোট ২,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করার বিকল্প (গ্রিন-শু অপশন) খোলা রাখছে। এই অর্থ ব্যবসার বৃদ্ধি এবং মূলধন বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হবে।
এই বন্ডে বিনিয়োগ করলে বছরে কার্যকরভাবে ৯% পর্যন্ত সুদ বা রিটার্ন পাওয়া যেতে পারে। বিনিয়োগকারীরা ২৪ মাস, ৩৬ মাস এবং ৬০ মাসের মেয়াদে টাকা রাখতে পারবেন। সুদের টাকা মাসিক, বার্ষিক অথবা মেয়াদের শেষে একবারে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। এই বন্ডটিকে ক্রিসিল (CRISIL) রেটিং দিয়েছে ক্রিসিল এএ/স্টেবল এবং ব্রিকওয়ার্ক রেটিং দিয়েছে বিডব্লিউআর এএ+ (স্টেবল) রেটিং। এর অর্থ হলো সময়মতো টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি যথেষ্ট নিরাপদ এবং এতে ঝুঁকির মাত্রা খুবই কম। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর হিসাব অনুযায়ী, আইআইএফএল ফিন্যান্স-এর মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৮,৩৩৬ কোটি টাকা। কোম্পানির ঋণের মানও বেশ ভালো। গ্রস এনপিএ মাত্র ১.৬০% এবং নেট এনপিএ মাত্র ০.৭৫%। এছাড়া কোম্পানির ঋণের ৮৩.৬১% সম্পদ বা কোলাটেরাল দ্বারা সুরক্ষিত।
এই নতুন প্রতিটি বন্ডের ফেস ভ্যালু ১,০০০ টাকা। আবেদন করতে হলে কমপক্ষে ১০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এই ইস্যুটি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে খুলবে এবং ৪ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে গেলে কোম্পানি এটি আগেই বন্ধ করে দিতে পারে। ‘ফার্স্ট-কাম, ফার্স্ট-সার্ভড ভিত্তিতে এই বন্ড বণ্টন করা হবে। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার জন্য এই বন্ডগুলো বিএসই এবং এনএসই শেয়ার বাজারে নথিভুক্ত করা হবে। আইআইএফএল ফিন্যান্স-এর প্রতিষ্ঠাতা নির্মল জৈন জানান, এই সংগৃহীত অর্থ তাঁদের ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে এবং আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।
