কলকাতার মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসে সফল হল জটিল ‘ইনসিশনাল হার্নিয়া’র অস্ত্রোপচার। এক ৪৫ বছর বয়সী স্কুল শিক্ষিকার শরীরে অত্যন্ত জটিল অবস্থায় ছিল এই হার্নিয়া। ত্রিপুরার আগরতলার বাসিন্দা নূপুর সরকার নামের ওই রোগী অপারেশন শেষে এখন সুস্থ। এই অস্ত্রোপচারটি করা হয়েছে উন্নত ল্যাপারোস্কোপিক বা ‘কি-হোল’ পদ্ধতিতে। তিন বছর আগে নূপুর তাঁর অসুস্থ স্বামীকে বাঁচাতে লিভারের একাংশ দান করেছিলেন। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের পর তাঁর স্বামী সুস্থ হয়ে উঠলেও, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে নূপুর দেবীর অস্ত্রোপচারের স্থানে বড় আকারের হার্নিয়া তৈরি হয়। পুনরায় ওপেন সার্জারির করাতে ভয় পাচ্ছিলেন তিনি। শেষে মণিপাল হাসপাতালে রোবোটিক ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডাঃ সুমন্ত দে-র শরণাপন্ন হন নূপুর।
ডাঃ সুমন্ত দে এবং তাঁর বিশেষজ্ঞ দল ডিসেম্বরের শুরুতে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে নূপুর দেবীর ‘ল্যাপারোস্কোপিক অ্যাবডোমিনাল ওয়াল রিকনস্ট্রাকশন’ সম্পন্ন করেন। ডাঃ দে বলেন, “আগে বড় অস্ত্রোপচার হওয়ায় এই হার্নিয়াটি বেশ জটিল ছিল। কিন্তু ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা সফলভাবে পেটের ভেতরের স্তর পুনর্গঠন করতে পেরেছি। অস্ত্রোপচারের চার ঘণ্টার মধ্যেই রোগী হাঁটতে শুরু করেন এবং পরদিনই তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়।” নূপুর সরকার তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “মণিপাল হাসপাতালের ডাক্তাররা ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে আমার চিকিৎসা করে আমাকে নতুন জীবন উপহার দিয়েছেন।”
অস্ত্রোপচারের পনেরো দিন পর ফলো-আপ চেকআপে নূপুর দেবীকে সম্পূর্ণ সুস্থ ঘোষণা করা হয়েছে এবং তিনি স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছেন। এই সাফল্য প্রমাণ করে যে লিভার বা পেটের জটিল সমস্যায় ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি এখন একটি অত্যন্ত কার্যকর ও নিরাপদ চিকিৎসা বিকল্প।
