গ্যাসের জোগান খতিয়ে দেখতে মাঠে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ, এসওপি জারির পর তৎপর প্রশাসন

রাজ্যে এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বৃহস্পতিবার আদর্শ কার্যপদ্ধতি (এসওপি) জারি করেছে নবান্ন। তার পর থেকেই প্রশাসনের তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা ও বিভিন্ন জেলায় গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলির দফতর ও গুদামে নজরদারি শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। কোথায় কত সিলিন্ডার মজুত রয়েছে, জোগানের পরিমাণ কত, গ্রাহকেরা কী ভাবে গ্যাস বুক করছেন—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কালোবাজারির অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে।
শুক্রবার সকালে লর্ডস মোড় এলাকায় একটি গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার দফতরে হানা দেন এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকেরা। সেখানে মজুত সিলিন্ডারের সংখ্যা এবং সরবরাহ সংক্রান্ত রেজিস্টার খতিয়ে দেখা হয়। একই ধরনের তল্লাশি চলছে জেলার বিভিন্ন জায়গাতেও। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের বাদু এলাকায় একটি গুদাম ঘিরেও অভিযোগ ওঠে যে সেখানে প্রচুর সিলিন্ডার মজুত থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দারা গ্যাস পাচ্ছেন না। পুলিশ ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে, যদিও ডিলারদের দাবি, নিয়ম মেনেই হিসাব রাখা হচ্ছে।
জলপাইগুড়ির একটি গ্যাস সরবরাহকারী দফতরে নোটিস টাঙিয়ে জানানো হয়েছে, ৯ মার্চের পরে যাঁরা বুকিং করেছেন, তাঁদের আপাতত সিলিন্ডার দেওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে হুগলির চুঁচুড়া, ব্যান্ডেল ও ডানলপ এলাকার কয়েকটি গুদামেও প্রশাসনের নজরদারি চলছে।
গ্যাস সরবরাহকারীদের মতে, আতঙ্কে হঠাৎ করেই বুকিং বেড়ে যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। আগে যেখানে দিনে ৪০০–৫০০ বুকিং হত, এখন তা হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অথচ প্রতিদিন একই সংখ্যক সিলিন্ডারই সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে চাহিদা মেটাতে সমস্যা হচ্ছে।
অন্যদিকে বহু গ্রাহকের অভিযোগ, বুকিং করেও সময়মতো গ্যাস পাচ্ছেন না। কোথাও আবার সার্ভার ডাউন থাকার কারণে বুকিং করাই যাচ্ছে না। এতে সাধারণ পরিবার ছাড়াও স্কুলের হস্টেল, মা ক্যান্টিন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে শহরের বড় হাসপাতালগুলিতে আপাতত গ্যাসের কোনও সঙ্কট নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রাজ্যের নির্দেশ অনুযায়ী জরুরি পরিষেবা, হাসপাতাল, স্কুল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে তেল সংস্থাগুলিকে। পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকদেরও প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।