রাজ্যব্যাপী প্রতিবাদ আন্দোলনের ঘোষণা করল সিপিআইএম  

স্মার্ট মিটার সংযোগ এর বিরোধী সিপিআইএম দল। তাই এই সংযোগ বন্ধ করতে হবে। একই সাথে সিএনজি পিএনজি গ্যাস ও বিদ্যুৎ-মাশুলের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করতে হবে। এই দাবিতে আগামী এক সপ্তাহ ব্যাপি সারা রাজ্যে প্রতিটি জেলা ও মহকুমায় অবস্থিত বিদ্যুৎ নিগমের কার্যালয়গুলির সামনে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিক্ষোভ সংগঠিত করবে দল। আর তাতে যদি সরকার সাড়া না দেয় তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য থাকবে দল। মঙ্গলবার আগরতলায় মেলার মাঠ স্থিত সিপিআইএম দলের রাজ্য কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানান পার্টির রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি ও স্মার্ট মিটার সংযোজন নিয়ে ক্রমশ যেন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী মাশুল বৃদ্ধি ও স্মার্ট মিটার নিয়ে নিজের বক্তব্য জনসম্মুখে তুলে ধরলেও, তা যেন মেনে নিতে পারছেন না সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলি। তাই বর্ধিত বিদ্যুতের মাশুল প্রত্যাহার সহ স্মার্ট মিটার সংযোজন বন্ধ করার দাবিতে এবার গোটা রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ আন্দোলন কর্মসূচি সংগঠিত করার ঘোষণা দিল বিরোধী দল সি পি আই এম। 

সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাক্তন বিদ্যুৎ মন্ত্রী মানিক দে ও সি পি আই এম নেতা রতন দাসকে পাশে রেখে পার্টির রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী ঘোষণা দেন বিদ্যুৎ ইস্যুতে দল আগামী এক সপ্তাহ ব্যাপী রাজ্যের প্রতিটি জেলা ও মহকুমা সদরে বিদ্যুৎ নিগমের কার্যালয়ের সামনে দাবি  আদায়ের লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি সংগঠিত করবে দল। আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, একটা সময় এই রাজ্য থেকে বিদেশে কিংবা অন্য রাজ্যে বিদ্যুৎ বিক্রি করার একটা গৌরব অর্জন করেছিল। অথচ গত সাড়ে সাত বছরে ট্রিপল ইঞ্জিনের সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে মডেলের নাম করে একের পর এক অন্ধকার নামিয়ে আনছে।  সামান্য এক দুই পশলা বৃষ্টি হলেই ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ পরিষেবা। সাড়ে সাত বছরে নতুন করে এক ইউনিট বিদ্যুৎও উৎপাদন করতে পারেনি এই সরকার। বিদ্যুৎ পরিষেবার মান উন্নয়ন না করে সমানতালে চলছে মাশুল বৃদ্ধি।

এর মধ্যে আবার এখন সারা দেশের সাথে রাজ্যেও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিতে স্মার্ট মিটার বসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। আর এই মিটার লাগাতেই দেখা যাচ্ছে আগে যেখানে ২০০, ৩০০ টাকা বিল দেওয়া হতো এখন তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৮০ হাজার ৯০ হাজার টাকা। এতে করে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কেন এই স্মার্ট মিটার এর কোন সঠিক যুক্তি দেখাতে পারছে না বিদ্যুৎমন্ত্রী। বিদ্যুতের বেহাল এই অবস্থা নিয়ে কোন জবাব দিতে পারছেন না মন্ত্রী। আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম মূল্য বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে যেভাবে বিদ্যুতের মাশুল বাড়ানো হয়েছে তাও ঠিক নয়। তাই স্মার্ট মিটার সংযোজন বন্ধ করার পাশাপাশি সিএনজি পিএনজি গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্ধিত মাসুল কোন অবস্থাতে মেনে নিতে পারছে না সিপিআইএম দল। অবিলম্বে বর্জিত মাশুল প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী এক সপ্তাহব্যাপী গোটা রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ আন্দোলন কর্মসূচি সংগঠিত করবে সি পি আই এম।